রাস্তা ভাগাভাগি: পথচারী, রিকশা ও দুই-চাকার যান
বাংলাদেশে রাস্তা ভাগ করা, আলাদা করা নয়। পথচারী দরকার মতো পার হয়, রিকশা গাড়ির লেনেই চলে, মোটরসাইকেল ফাঁকা দিয়ে ঢুকে পড়ে, সিএনজি সংকেত না দিয়েই থামে। রাইট অফ ওয়ে তাত্ত্বিক — দুর্ঘটনা সবসময় বাস্তবে চালকেরই সমস্যা।
প্রতিটি মোড়ে তিন-সেকেন্ডের স্ক্যান
ফুটপাতে কেউ পা দিতে যাচ্ছে কিনা দেখুন। মিরর দেখুন — ব্লাইন্ড স্পটে মোটরসাইকেল আছে কিনা। ওপারে দেখুন — রিকশা আপনার টার্ন কাটছে কিনা। যেকোনো একটি মিস করলে দুর্ঘটনা আপনার, সিগন্যাল যারই সবুজ হোক। স্ক্যানে তিন সেকেন্ড; যে ধাক্কা এটি এড়ায় তার মাশুল মাস। প্রতিবার করুন — শুধু "ভিড় মনে হলে" নয়।
রিকশা ও সিএনজি
ধরে নিন সংকেত ছাড়াই থামবে, ঘুরবে বা ইউ-টার্ন নেবে — কারণ তা-ই করবে। শুধু ডানদিক দিয়ে জায়গা রেখে ওভারটেক করুন, এবং শুধুমাত্র যখন দেখতে পাচ্ছেন তারা নিজেদের লাইনেই আছে। মোড়ের কাছে কোনো রিকশা ওভারটেক করবেন না — তারা না দেখে ঘোরে, এবং তাদের ঘোরার বৃত্ত দেখানোর চেয়ে বড়। সামনের সিএনজি হঠাৎ দৃশ্যত কারণ ছাড়াই ধীরে হলে ওভারটেক করবেন না — কারণটি পরের সেকেন্ডেই তাদের পেছন থেকে বেরিয়ে আসবে, প্রায়শই একজন পথচারী।
ব্লাইন্ড স্পটে মোটরসাইকেল
লেন বদলের আগে মিরর দেখুন এবং মাথা ঘোরান — দুটি মিরর চেকের মাঝেই মোটরসাইকেল ফাঁকে হাজির হতে পারে। দুই-চাকা যানকে পাশ কাটানোর সময় অন্তত পুরো একটি গাড়ির চওড়া জায়গা দিন; বাতাসে দোল, ঢিবিতে কাঁপন, বা অমনোযোগী চালকে এক মুহূর্তে এক মিটার লাগে। থেমে থাকা ট্রাফিকে ধরে নিন মোটরসাইকেল আপনার গাড়ির দুই পাশ দিয়েই আসতে পারে — দরজা খোলার আগে এবং ফাঁকে ঢোকার আগে দুটো মিররই দেখুন।
পথচারী
তারা ব্লকের মাঝে, পার্ক করা গাড়ির ফাঁকে, এবং সিগন্যালের বিরুদ্ধেও পার হবে। সিগন্যাল সবুজ থাকলেও স্কুল, বাজার, মসজিদ, বাস স্টপের কাছে ধীরে চলুন — ঝুঁকি সিগন্যালে নয়, ফুটপাতে। শিশু ও বয়স্ক দুই দল না দেখেই পা দেয়; তাদের সবসময় বাড়তি দূরত্ব ও বাড়তি সতর্কতা দিন। কার্বে থামা বাস অন্ধ-স্পট পথচারী তৈরির কারখানা — ধরে নিন কেউ তার সামনে থেকে বেরিয়ে আসছে।
মিশ্র ট্রাফিকে রাতের ড্রাইভিং
রিকশায় প্রায়ই পেছনের রিফ্লেক্টর নেই, সাইকেলে বাতি নেই, পথচারীর কাপড় কালো। ধরে নিন যে কেউই সেখানে থাকতে পারে। যতটা দূর আপনার হেডলাইট সত্যিই দেখাচ্ছে ততটুকু দূরত্ব ধরে চালান — মনে থাকা রাস্তা নয়। উল্টো দিক থেকে আসা গাড়ির জন্য বিম নিচু করুন (আপনাদের মাঝে থাকা রিকশা আলোর ঝলকে হারিয়ে যায়)। হেডলাইট হলদে বা ভুল দিকে থাকলে সেটি রাতের নিরাপত্তার সমস্যা, প্রসাধনী নয় — পরবর্তী অন্ধকার যাত্রার আগে ঠিক করান।
যদি কাউকে ধাক্কা দেন — সামান্য ঘষটাও
থামুন। নিরাপদ জায়গায় যান কিন্তু ঘটনাস্থল ছাড়বেন না। প্রথমে সেই মানুষটির চিকিৎসা ব্যবস্থা করুন, তারপর পুলিশ (স্থানীয় থানায় জিডি) ও বিমা কোম্পানিকে জানান। গাড়ির অবস্থান, সম্মতি নিয়ে ব্যক্তির অবস্থা, ও চারপাশের ছবি তুলুন। ঘটনাস্থল ছেড়ে গেলে দোষ যাই হোক দেওয়ানি ব্যাপার ফৌজদারিতে বদলায় — এবং বাংলাদেশে দ্রুত ভিড় জমতে পারে; পালিয়ে যাওয়া চালকের পরিণতি থাকা চালকের চেয়ে অনেক খারাপ। সহযোগিতা করুন; ডকুমেন্ট করুন; ঘটনাস্থলে দোষ স্বীকার করবেন না।