Skip to main content

নো-ক্লেইম বোনাস না হারিয়ে বিমা দাবি করা

যে দাবিটি করা উচিত হয়নি এবং যেটা অবশ্যই করা উচিত ছিল — পার্থক্যটা বিমা কোম্পানিকে ফোন করার আগে পাঁচ মিনিটের হিসাব, পরে নয়।

নো-ক্লেইম বোনাস আসলে কীভাবে কাজ করে

এনসিবি হলো আপনার মোটর প্রিমিয়ামে একটি ছাড় যা প্রতিটি দাবি-মুক্ত বছরে বাড়ে — সাধারণত পাঁচ বছরে ছোট শতাংশ থেকে প্রিমিয়ামের প্রায় ৪০–৫০% ছাড় পর্যন্ত। যে মুহূর্তে দাবি করবেন, ছোট হলেও, সেই ছাড় রিসেট হয় — সাধারণত শূন্যে। ৪০–৫০% এনসিবি হারানো পরের কয়েক নবায়নে যে দাগের জন্য দাবি করলেন তার চেয়ে বেশি খরচ করাতে পারে। পুরো ফাঁদটাই এই।

নিজে টাকা দেওয়া বনাম দাবি করা

সহজ নিয়ম: ওয়ার্কশপের অনুমান যদি (আপনার পলিসির এক্সেস + এনসিবি রিসেট হওয়ায় পরের ২–৩ বছরে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম) এর চেয়ে কম হয়, নিজেই দিন। প্রথমে ওয়ার্কশপ থেকে লিখিত অনুমান নিন, বিমা কোম্পানিকে জিজ্ঞেস করুন শূন্য এনসিবিতে আগামী বছর কত প্রিমিয়াম হবে, এবং কাগজে যোগ করুন। বেশিরভাগ একক-প্যানেল ডেন্ট ও বাম্পার মেরামত সেই লাইনের নিচেই পড়ে — কম্প্রিহেন্সিভ পলিসিতে বিমা কোম্পানি কেন লোকসান করে না তার কারণ এটি।

সিদ্ধান্তের আগে — ঘটনাস্থলের প্রমাণ

চার কোণ থেকে ঘটনাস্থল, উভয় গাড়ি, উভয় নম্বর প্লেট, স্কিড মার্ক, স্থানের ট্রাফিক সাইন, যেকোনো আঘাতের ছবি তুলুন। অপর পক্ষের পূর্ণ নাম, এনআইডি নম্বর, লাইসেন্স নম্বর, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফোন লিখে নিন। স্ক্র্যাচের চেয়ে বেশি কিছু হলে স্থানীয় থানায় জিডি করুন — বিনামূল্যে, এক ঘণ্টা লাগে। এই ধাপগুলো আপনাকে দাবি করতে বাধ্য করে না; পরে দাবি করলে সবগুলোই দরকার। জিডি বা পুলিশ রিপোর্ট ছাড়া দাবি প্রায় সবসময়ই বাতিল হয়।

দাবির প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে

আপনার পলিসিতে লেখা সময়ের মধ্যে বিমা কোম্পানিকে জানান — সাধারণ কোনো সংখ্যা নয়, আপনার ডকুমেন্টে নির্দিষ্ট যেটা লেখা আছে সেটাই (সাধারণত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা)। সময় পার হলে সেই কারণেই দাবি বাতিল হতে পারে। সম্ভব হলে একই দিনে ক্লেইম ফর্ম পূরণ করুন। বিমা কোম্পানি ক্ষতি পরিদর্শনে সার্ভেয়ার পাঠাবে; নিজে উপস্থিত থাকুন, কী ঘটেছিল ব্যাখ্যা করুন, জিডির কপি ও ছবি দিন। সার্ভেয়ারের রিপোর্টের পরই ওয়ার্কশপের অনুমান অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া যায় — নিজে আগে মেরামত অনুমোদন করে পরে বিমা কোম্পানিকে টাকা দিতে বলা দাবির টাকা কমানোর বা বাতিল হওয়ার একটি সাধারণ কারণ।

থার্ড-পার্টি বনাম ওন-ড্যামেজ — কোনটায় আছেন জানুন

যদি অপর চালকের দোষে আপনার গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দাবি তার বিমা কোম্পানির মাধ্যমে থার্ড-পার্টি দাবি হিসেবে যাবে — আপনার এনসিবিতে হাত পড়ে না। যদি আপনার দোষে অন্যের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অপর পক্ষ আপনার থার্ড-পার্টি কভারে দাবি করবে — এটাও ওন-ড্যামেজ দাবির থেকে আলাদাভাবে চলে। শুধু নিজের গাড়ির ক্ষতির জন্য নিজের ওন-ড্যামেজ কভারে দাবি করলেই এনসিবি রিসেট হয়। ঘটনাস্থলে দোষ স্বীকারের আগে বুঝে নিন ঘটনা কোন শ্রেণিতে পড়ছে।

কেন দাবি বাতিল হয় — ঘটনার আগেই ঠিক রাখুন

সাধারণ বাতিলের কারণ: ক্ষতির মুহূর্তে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ড্রাইভিং (মেয়াদোত্তীর্ণ মানেই অবৈধ), মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস সার্টিফিকেট, মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাক্স টোকেন, অ্যালকোহল বা মাদকের প্রভাবে ড্রাইভিং, ব্যক্তিগত রেজিস্ট্রেশনের গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার (রাইড-শেয়ার, পণ্য পরিবহন), এবং পলিসিতে ঘোষণা ও এন্ডোর্স না করা যেকোনো পরিবর্তন (বড় টায়ার, অ্যালয় হুইল, ইঞ্জিন পরিবর্তন, আফটারমার্কেট এলপিজি/সিএনজি রূপান্তর)। ঘটনার আগে এগুলোর সবটাই ঠিক করা যায়; ঘটনার পর কোনোটাই নয়।