সপ্তাহ বা মাসের জন্য গাড়ি অব্যবহৃত রেখে দেওয়া
"শুধু কয়েক সপ্তাহের জন্য" পার্ক করা গাড়ি প্রায়ই এক বছরের সাধারণ সার্ভিসিংয়ের চেয়ে বেশি খরচে চালু করতে হয়। গাড়ি চালানোর জন্য ডিজাইন করা; বাংলাদেশের আর্দ্রতায় স্থির থাকা তার জন্য প্রতিদিনের যাতায়াতের চেয়ে কঠিন।
চালানোর চেয়ে স্থির থাকা কেন কঠিন
কিছু চালু না থাকলেও ব্যাটারি চার থেকে ছয় সপ্তাহে নিজে নিজে ডিসচার্জ হয়। টায়ারে ফ্ল্যাট স্পট পড়ে যেখানে ওজন এক পয়েন্টে বসে থাকে। বর্ষার আর্দ্রতায় ব্রেক ডিস্কে উপরিভাগে মরিচা পড়ে ও প্যাড ডিস্কে লেগে যায়। প্রায় তিন মাসে জ্বালানি বাসি হয়। রাবার সিল শুকিয়ে যায়। ইঁদুর গরম ইঞ্জিন বে খুঁজে নিয়ে তার কাটে — কয়েক হাজার টাকার বিল দশ হাজারে পৌঁছায়।
পার্ক করার আগে — সেই দুপুরেই
ট্যাংক প্রায় ভর্তি করে ফেলুন। জ্বালানির উপরে কম বাতাসের জায়গা মানে কম কনডেনসেশন, ট্যাংকে কম পানি, কম মরিচা। ইঞ্জিন অয়েল প্রায় ডিউ হয়ে থাকলে বদলে ফেলুন — বসে থাকা তেল অ্যাসিডিক হয়ে বেয়ারিং ক্ষয় করে। ফ্ল্যাট স্পট এড়াতে টায়ার সাধারণ ঠান্ডা প্রেশারের চেয়ে ৩–৫ পিএসআই বেশি রাখুন।
হ্যান্ডব্রেক: অল্প সময়ের পার্কে ঠিক আছে। এক মাসের বেশি হলে হ্যান্ডব্রেক লাগিয়ে রাখবেন না — আর্দ্র বাতাসে প্যাড ডিস্কে লেগে যায়। বরং ইট বা ওয়েজ দিয়ে চাকা চক করুন এবং গিয়ার লাগিয়ে রাখুন (ম্যানুয়াল) বা পার্কে (অটো)।
প্রথমে মরে ব্যাটারি
তিন সপ্তাহের বেশি পার্কের জন্য নেগেটিভ টার্মিনাল খুলে দিন — ইগনিশন বন্ধ থাকলেও অ্যালার্ম, ঘড়ি, কম্পিউটার ধীরে ধীরে ব্যাটারি টানে। মেমরি-লস সমস্যা থাকলে (রেডিও কোড আবার দিতে হয়, সিট প্রিসেট, সানরুফ ক্যালিব্রেশন, কিছু অ্যান্টি-থেফট সিস্টেম) বরং একটি ছোট ট্রিকল চার্জার / ব্যাটারি মেইনটেইনার লাগান। এক মাস পুরোপুরি ফ্ল্যাট থাকা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি ফেলে দেওয়ার — গাড়ি চালু হওয়ার আগেই ১২,০০০–২০,০০০ টাকার বিল।
ইঞ্জিন বে-তে ইঁদুর
পুরোনো ধাঁচের কিন্তু কার্যকর অভ্যাস: বনেটের নিচে ছোট ছিদ্রযুক্ত টিনে কয়েকটি ন্যাপথলিন বল (প্লাস্টিকের অংশ স্পর্শ না করে, যা এগুলো গলিয়ে দিতে পারে)। এয়ার ইনটেকের মুখ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে বন্ধ করুন — এবং স্টিয়ারিং হুইলে একটি লেবেল টেপ দিয়ে লাগিয়ে দিন মনে করিয়ে দিতে যে চালু করার আগে তা খুলতে হবে, কারণ ইনটেকে থাকা কাপড় প্রথম ড্রাইভেই ইঞ্জিন নষ্ট করবে। সম্ভব হলে আলোকিত জায়গায় পার্ক করুন; উজ্জ্বল আলোতে ইঁদুর কম আসে।
দুই সপ্তাহে একবার চালানো, কেউ পারলে
বিশ্বস্ত কোনো পরিবারের সদস্য বা চালক প্রতি দুই সপ্তাহে একবার গাড়ি চালাতে পারলে সেটাই ৮০% ক্ষতি ঠেকিয়ে দেয়। এক জায়গায় পাঁচ মিনিট আইডল নয় — সত্যিকারের ১৫–২০ কিমি ড্রাইভ যা ইঞ্জিনকে পূর্ণ অপারেটিং তাপমাত্রায় আনে। এটি ব্যাটারি রিচার্জ করে, স্থির বেয়ারিংয়ে তাজা তেল পাঠায়, এক্সহস্ট ও ক্যাটালিটিক কনভার্টার থেকে ঘনীভূত আর্দ্রতা শুকায়, ফ্ল্যাট স্পট থেকে টায়ার সরায়।
আবার চালু করা — সরাসরি চালিয়ে বেরোবেন না
টায়ার প্রেশার ঠান্ডা অবস্থায় দেখে দরজার পিলারের স্টিকারের মান অনুযায়ী পাম্প করুন। ইঞ্জিন অয়েল ডিপস্টিক ও কুল্যান্ট রিজার্ভার দেখুন। গাড়ির নিচে তাজা ফোঁটা আছে কিনা দেখুন (পুকুরের মতো জমা মানে বসে থাকা অবস্থায় সিল ছেড়ে দিয়েছে)। ব্যাটারি সংযুক্ত করুন। ইনটেক থেকে কাপড় বের করুন। চালু করে দুই-তিন মিনিট আইডলে রাখুন সরানোর আগে — লোড দেওয়ার আগে তেল সঞ্চালিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
প্রথম ড্রাইভ ধীর ও সংক্ষিপ্ত হোক: চলার আগে ব্রেক প্যাডেল কয়েকবার চাপুন (ডিস্কে মরিচার ধুলা), নতুন কোনো শব্দ শুনুন, এবং ১৫–২০ কিমি চালিয়ে ব্রেক স্বাভাবিক ধরছে, তাপমাত্রা স্থির, নতুন কোনো ওয়ার্নিং লাইট আসেনি — এগুলো নিশ্চিত হওয়ার আগে হাইওয়েতে যাবেন না।