লম্বা যাত্রার জন্য গাড়ি প্রস্তুতি
লম্বা যাত্রায় ছোট অগ্রাহ্য সমস্যাগুলো বড় রাস্তার সমস্যায় পরিণত হয়। মূল নিয়ম সহজ: চেকগুলো যাত্রার আগের দিন করুন, সকালে নয়। আগের দিন যা পাবেন সেটা কর্মশালা যাত্রা; সকালে যা পাবেন সেটা দেরি।
ফ্লুইড — শুধু ঠান্ডা ইঞ্জিনে
- ডিপস্টিকে ইঞ্জিন অয়েল MIN ও MAX-এর মাঝে — কম হলে টপ-আপ করুন, কিন্তু চেকের মাঝে বড় ড্রপ মানে লিক, টপ-আপ নয়।
- এক্সপ্যানশন ট্যাংকে চিহ্নিত জায়গায় কুল্যান্ট — কখনো গরম ক্যাপ খুলবেন না।
- ব্রেক ফ্লুইড MAX লাইনে — কম হলে হয় প্যাড ক্ষয়িত নয়তো লিক আছে। যাত্রার আগেই কর্মশালা দরকার।
- ওয়াশার ফ্লুইড ভর্তি — বৃষ্টির ছিটায় ঘোলা উইন্ডস্ক্রিন সত্যিকারের নিরাপত্তা সমস্যা।
টায়ার — স্পেয়ার সহ
দরজার জ্যাম্বে লেখা স্পেসিফিকেশনে ঠান্ডা অবস্থায় প্রেসার চেক করুন — শেষ যে দিয়েছে সে যা দিয়েছে সেটা নয়। ট্রেড দেখুন পুরো চওড়া জুড়ে, শুধু মাঝে নয় — কিনার ওয়্যার ইন্ডিকেটর পর্যন্ত ক্ষয়িত টায়ার মাঝে ভালো দেখালেও শেষ। এরপর বুট খুলে স্পেয়ারেও প্রেসার আছে কিনা দেখুন — চ্যাপ্টা স্পেয়ার মানে স্পেয়ার নেই।
লাইট — কেউ পিছনে দাঁড়ায়
একা ব্রেক লাইট চেক করা যায় না। পরিবারের কাউকে পিছনে দাঁড়াতে বলুন, পেডাল চাপুন, তারপর বাম-ডান ইন্ডিকেটর, রিভার্স লাইট, হাই বিম — সব দেখুন। কারো সন্ধ্যার দশ মিনিট অন্ধকার রাস্তায় রাতে থামা প্রতিরোধ করে।
গ্লাভবক্সে কাগজপত্র
- গাড়ির রেজিস্ট্রেশন — আইন চাইলে আসল, না হলে স্পষ্ট কপি।
- বীমা — জরুরি নম্বর স্পষ্টভাবে দেখা যায় এমনভাবে।
- ড্রাইভিং লাইসেন্স ও একটি ফটো আইডি।
- কর্মশালার সার্ভিস রেকর্ড — ওয়ার্নিং লাইট এলে পরের মেকানিক শুরুর একটি জায়গা পাবেন।
কাগজের কার্ড
একটি কার্ডে নম্বরগুলো লিখে গ্লাভবক্সে রাখুন: ঘর, স্ত্রী/স্বামী, আপনার নিয়মিত কর্মশালা, বীমার কলআউট, এবং দেশের যেকোনো প্রান্তে একজন বন্ধু। ফোন মরে, চার্জার নষ্ট হয়, স্ক্রিন ভাঙে। খামে ভাঁজ করা একটি কার্ড সবসময় কাজ করে। বছরে একবার নতুন করে লিখুন।
যাত্রা-অভ্যাস
- তিন-চতুর্থাংশে জ্বালানি নিন, খালিতে নয় — অপ্রত্যাশিত ঘুরপথ চাপের বদলে নিরাপদ হয়ে যায়।
- প্রতি ঘণ্টা দুয়েক পর থামুন — চালকের জন্য, গাড়ির জন্য নয়। ক্লান্ত ড্রাইভিংই বেশিরভাগ লম্বা যাত্রার দুর্ঘটনার কারণ।
- বর্ষায় জলাবদ্ধ অংশের জন্য পরিকল্পনা রাখুন — পানিতে বসে না, পানি পৌঁছানোর আগেই বিকল্প পথ জানুন।