জলাবদ্ধতা ও আপনার গাড়ি
বর্ষার জমা পানি গাড়ির ক্ষতি করে একটি নির্দিষ্ট ক্রমে। এই ক্রম জানা মানে জানা কখন এগোবেন, কখন থামবেন, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — কখন আর স্টার্ট বোতাম চাপবেন না।
সাধারণ নিয়ম
- পানি দরজার সিলে পৌঁছালে থামুন। পারলে ঘুরে ফিরে যান।
- পানি চাকার হাবে পৌঁছালে, ইঞ্জিন আর স্টার্ট করবেন না — এমনকি বন্ধ হয়ে গেলেও। এই নিয়মটাই ইঞ্জিন বাঁচায়।
- মোটরসাইকেল: রাইডারের কোমর-সমান পানি বাইকের জন্য অনেক বেশি; এক্সহস্ট আর ইনটেক দুটোই তার অনেক আগেই পানি নিয়ে নেয়।
পানি যে ক্রমে ক্ষতি করে
- ১. ব্রেক ধরার ক্ষমতা হারায় — ভেজা প্যাড ও রোটর একটু সময় লাগে গ্রিপ করতে। পার হয়ে হালকা করে টেস্ট করুন।
- ২. ইলেকট্রিক্যাল খামখেয়ালি হয় — ড্যাশবোর্ড লাইট, সেন্সর, ECU-এর আচরণ ভিজে যাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা এলোমেলো হতে পারে।
- ৩. ইঞ্জিন — পানি এয়ার ইনটেকে পৌঁছালে সিলিন্ডারে ঢোকে এবং কম্প্রেস হয় না। এটাই হাইড্রোলক, এবং এটা সাধারণত কনেক্টিং রড বাঁকিয়ে দেয়।
একটি ব্যয়বহুল ভুল
যদি বন্যার পানিতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়, সবচেয়ে খারাপ কাজ হলো আবার চাবি ঘোরানো। ক্র্যাংক করলে আরও পানি ঢোকে। বন্ধ ইঞ্জিন টেনে বের করলে খরচ এক ওয়ার্কশপ দিন। লক না হওয়া পর্যন্ত ক্র্যাংক করা ইঞ্জিন খরচ একটা রিবিল্ড। এই একটি অভ্যাস — আর স্টার্ট করবেন না — বর্ষার সবচেয়ে বড় বিল থেকে বাঁচায়।
জমা পানি পার হওয়ার পরে যা যা দেখবেন
- ব্রেক — কম গতিতে হালকা করে পাম্প করতে থাকুন যতক্ষণ না ভালোভাবে ধরে।
- ফ্লোর ম্যাট — তুলুন; আটকে থাকা পানি ফ্লোরকে নিচ থেকে পচায়।
- ড্যাশবোর্ড — কোন কোন ওয়ার্নিং লাইট জ্বলে ও জ্বলে থাকে খেয়াল করুন।
- পরের দিন অয়েল ক্যাপ — দুধের মতো রিং মানে অয়েলে পানি; ইঞ্জিন বেশি চালানোর আগে ওয়ার্কশপে যান।
প্রতিরোধমূলক অভ্যাস
- একটি টর্চ, ছোট টো স্ট্র্যাপ, এবং একটি ওয়ার্কশপের ফোন নম্বর সংরক্ষণ করে রাখুন। বর্ষা খোঁজাখুঁজির সময় নয়।
- ইনটেক পাথ উঁচু করা একটা ওয়ার্কশপের কাজ — মৌসুমের সময় নয়, আগে জিজ্ঞাসা করা মূল্যবান।
- প্রতি ভেজা দিনের পরে গাড়ির নিচে ঝুলে থাকা ধ্বংসাবশেষ দেখুন যা প্যানেলের বিরুদ্ধে পানি আটকে রাখে।